সঞ্চয়পত্র মুনাফা ক্যালকুলেটর ২০২৬

সঞ্চয়পত্র মুনাফা ক্যালকুলেটর ২০২৬

বিনিয়োগের পরিমাণ দিন, সেকেন্ডেই পান কর-পরবর্তী মাসিক ও মোট মুনাফা।

⬆️ উপরে তথ্য দিয়ে "হিসাব করুন" বাটনে ক্লিক করুন।

⚠️ নোট: এই হিসাব সহজ সুদ পদ্ধতিতে। প্রকৃত মুনাফা প্রতিষ্ঠান ও পেমেন্ট সিডিউল ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সর্বশেষ হার ও নিয়মের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর দেখুন।

সঞ্চয়পত্র কী এবং কেন এটি বাংলাদেশের সেরা বিনিয়োগ?

সঞ্চয়পত্র হলো বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর পরিচালিত একটি সুরক্ষিত বিনিয়োগ প্রকল্প, যেখানে সরকার সরাসরি ঋণগ্রহীতা হওয়ায় বিনিয়োগকারীর মূলধন সম্পূর্ণ নিরাপদ। ব্যাংক ডিপোজিটের তুলনায় বেশি মুনাফা এবং শেয়ারবাজারের মতো কোনো ঝুঁকি না থাকায় এটি মধ্যবিত্ত পরিবার, নারী বিনিয়োগকারী এবং অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যম।

২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কত?

বর্তমানে চারটি প্রধান সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নিচে দেওয়া হলো:

সঞ্চয়পত্রের ধরনমেয়াদসুদের হারকে কিনতে পারবেন
পারিবারিক সঞ্চয়পত্র৫ বছর১১.৫২%শুধু নারী, ৬৫+ বয়সী পুরুষ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি |
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক৩ বছর১১.০৪%সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক |
৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র৫ বছর১১.২৮%সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক |
পেনশনার সঞ্চয়পত্র৫ বছর১১.৭৬%সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী |

সর্বশেষ আপডেটের জন্য: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট দেখুন।

সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর কত?

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উপর উৎসে কর (Tax at Source) প্রযোজ্য। সাধারণভাবে কর হার নিম্নরূপ:

  • TIN আছে এমন বিনিয়োগকারী: মুনাফার উপর ১০% উৎসে কর
  • TIN নেই এমন বিনিয়োগকারী: মুনাফার উপর ১০% উৎসে কর
  • পেনশনার সঞ্চয়পত্র: নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কর রেয়াত প্রযোজ্য হতে পারে

ক্যালকুলেটরে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী কর হার নির্বাচন করুন অথবা Custom অপশনে নিজের কর হার নির্ধারণ করুন।

বিনিয়োগের সীমা কত?

প্রতিটি সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে:

  • পারিবারিক সঞ্চয়পত্র: একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা
  • ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা
  • ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র: একক নামে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা
  • পেনশনার সঞ্চয়পত্র: সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা

সঞ্চয়পত্র কোথায় কিনবেন?

সঞ্চয়পত্র নিম্নোক্ত স্থান থেকে কেনা যায়:

  • যেকোনো সোনালী ব্যাংক শাখা
  • জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের নির্বাচিত শাখা
  • ব্র্যাক ব্যাংক ও অন্যান্য তফশিলি ব্যাংক
  • পোস্ট অফিস
  • অনলাইন: nationalsavings.gov.bd এর মাধ্যমে

সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য কী কী লাগবে?

১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের ফটোকপি
২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি (২ কপি)
৩. TIN সার্টিফিকেট (থাকলে)
৪. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর (মুনাফা সরাসরি অ্যাকাউন্টে জমা হয়)
৫. নমিনির NID ও ছবি

সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর নিয়ম

মেয়াদ শেষের আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে সম্পূর্ণ মুনাফা পাওয়া যায় না — মেয়াদ অনুযায়ী কম হারে মুনাফা প্রদান করা হয়। সাধারণভাবে:

  • ১ বছরের কম: মুনাফা দেওয়া হয় না, শুধু মূলধন ফেরত
  • ১–২ বছর: নির্ধারিত হারে আংশিক মুনাফা
  • মেয়াদ পূর্ণ হলে: সম্পূর্ণ মুনাফা

তাই সম্ভব হলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ধরে রাখাই বেশি লাভজনক।

সঞ্চয়পত্রের পর বাংলাদেশীদের জন্য আরেকটি সেভিংস্ মাধ্যম হলো DPS বা Deposit Pension Scheme, অনেক যায়গাতে এটিকে Deposit Premium Scheme নামে নামকরন করা হয়। অনলাইনে DPS এর মাসিক হিসাব করুন BanksFact এর প্রিমিয়াম ক্যালকুলেটরে, সম্পূর্ণ ফ্রী।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে কি পুরুষরা বিনিয়োগ করতে পারবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।

প্রশ্ন: সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কখন পাওয়া যায়?
উত্তর: পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে প্রতি মাসে, ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে প্রতি ৩ মাসে, এবং বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফা দেওয়া হয়।

প্রশ্ন: অনলাইনে সঞ্চয়পত্র কেনা কি নিরাপদ?
উত্তর: হ্যাঁ, সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট nationalsavings.gov.bd ব্যবহার করে অনলাইনে সঞ্চয়পত্র কেনা নিরাপদ।

প্রশ্ন: সঞ্চয়পত্র কি আয়কর রিটার্নে দেখাতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করতে হয়। তবে উৎসে কর কেটে নেওয়া হলে সাধারণত অতিরিক্ত করের বিষয়টি ব্যক্তির মোট আয় অনুযায়ী নির্ভর করে।

সর্বশেষ আপডেট: এপ্রিল ২০২৬। এই তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সাথে তথ্য যাচাই করে নিন।